Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সাধারণ তথ্য

        দেশের দক্ষিণ পূর্ব সমূদ্রের কোল ঘেষে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ অবস্থিত। এর উত্তরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বনাঞ্চল, পূর্বে বান্দরবান পার্বত্য জেলার অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল ও নাফ নদী দিয়ে বিভক্ত বাংলাদেশ ও মায়ানমারের আন্তর্জাতিক সীমানা এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বনভূমির পরিমাণ ৩৫,০০৬.৪৯ হেক্টর। তন্মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ২৯,১৮৪.২৭ হেক্টর, রক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ৫,৭৯৫.৬৪ হেক্টর ও অর্পিত বনভূমির পরিমাণ ২৬.৫৮ হেক্টর। উক্ত বিভাগে ১০টি রেঞ্জ, ২৫টি বিট ও ৩টি বিট কাম-চেক ষ্টেশন বিদ্যমান। মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক, ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এ বিভাগে অবস্থিত। মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্কটি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা একটি গর্জন বাগান। শতবর্ষী গর্জন বাগান গাছের ব্লক শুধুমাত্র এখানেই বিদ্যমান। কক্সবাজার হতে চট্টগ্রাম অভিমুখে এ ন্যাশনাল পার্কে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিঃ মিঃ।

       কক্সবাজার বনাঞ্চলে সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে বহুস্তর বিশিষ্ট গ্রীষ্মমন্ডলীয় ‍আংশিক চিরসবুজ বন। এ বনের নীচের স্তর চিরসবুজ প্রজাতির সমন্বয়ে এবং উপরিস্তর চিরসবুজ ও পর্নমোচী প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত। পর্নমোচী প্রজাতিগুলি পরিবর্তনশীল ও স্বল্পকালীন পর্নমোচী প্রজাতির তেলসুর, গর্জন, কড়ই, উড়ি আম, বান্দরহোলা প্রভৃতি এ জাতীয় বনের উপরিস্তরের বৃক্ষ। মধ্যস্তরে চাপালিশ, বাটনা, পিতরাজ, হারগাজা, বহেরা, কনক, হরিতকি, গাব, ভাদি, উদল প্রভৃতি প্রজাতি এবং নীচের স্তর জারুল, কদম, ভাদী, বাটনা, হিজল, গোদা, গুটগুটিয়া প্রভৃতি চিরসবুজ প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত।

       কক্সবাজার বনাঞ্চল বাংলাদেশের উল্লেখ্যযোগ্য বনজসম্পদ সমৃদ্ধ বনাঞ্চল সমূহের অন্যতম। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ছিলো, ছিলো বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সমারোহে বনরাজি। গগনে মাথা উঁচু করে থাকত এ অঞ্চলের গর্ব এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরসবুজ বনের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত প্রজাতি গর্জন। পাখীর মুহর্মুহ কুঞ্জন পোকামাকড়ের নিরবিচ্ছিন্ন কলতান, ঝর্ণার কুলকুল ধ্বনিতে সবর ছিলো এ বনভূমি। বন্যপ্রাণীর পদচারনায় ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করতো পাহাড়ে পর্বতে। জীববৈচিত্র্য ভরপুর ছিলো প্রাকৃতিক বনাঞ্চল।

      জীববৈচিত্র্য ভরপুর প্রাকৃতিক এ বনাঞ্চল এক পর্যায়ে এসে বৈচিত্র্য হারাতে শুরু করে। হুমকির সম্মুখীণ হয় সকল বন্যপ্রাণী। বার্মায় সৃষ্ট জাতিগত দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা এবং বার্মা সম্রাট কর্তৃক আরাকান দখল প্রভৃতি কারণে উক্ত এলাকা হতে এতদ্ অঞ্চলে জনসমাগম ঘটতে থাকে। তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য জঙ্গল পরিস্কার করে জুম চাষ শুরু করে। পরবর্তীতে মায়ানমার থেকে উদ্বাস্তদের পূর্ণবাসনের জন্য কোম্পানী সরকার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সকে নিয়োগ করে। বিস্তীর্ণ এলাকা জনশুণ্য থাকার কারণে আশপাশের এলাকা হতে বহু ভাগ্য বঞ্চিত ভাসমান জনসাধারণ এখানে এসে ভীড় জমায়। তারা ক্রমবর্ধমান হারে এখানে আবাসন গড়ে তোলে। বিকল্প কোন আয়ের উৎস না থাকায় তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য বনজসম্পদ আহরণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

      বন ব্যবস্থাপনা আরো নিবিড়ভাবে সম্পাদন করার উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালের ১লা এপ্রিল চট্টগ্রাম বন বিভাগকে দ,ভাগে বিভক্ত করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন বিভাগের সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৩২ সালে বেঙ্গল রিট্রেসমেন্ট কমিটির সুপারিশ অনুসারে ১৯৩৩ সালের ১লা জুলাই পুনরায় এ দুটি বন বিভাগকে একত্রিত করে চট্টগ্রাম বন বিভাগ নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে জনাব কিউ, গণি এর কার্যকরী পরিকল্পনার প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৫১ সালে আবার চট্টগ্রাম বন বিভাগকে বিভক্ত করে কক্সবাজার বন বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। সর্বশেষ ২০০১ সালে কক্সবাজার বন বিভাগকে বিভক্ত করে কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ১৯/০৭/২০০১ ইং তারিখ থেকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করা হয়।